Daily Janabhasha ১৪ অক্টোবার ২০২৬ ১০:৪৯ এ.এম
সম্পাদকীয়: মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঝরছে প্রাণ: প্রয়োজন কার্যকর, কঠোর ও টেকসই সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল অংশে ঘটে যাওয়া ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল একটি সড়ক দুর্ঘটনার সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার এক অত্যন্ত করুণ ও আশঙ্কাজনক প্রতিফলন। নরসিংদী থেকে মোটরসাইকেলযোগে সিলেটে যাওয়ার পথে সরাইলের বৈষামোড়া নামক এলাকায় যানজটের দরুন স্বাভাবিকভাবেই ধীরগতিতে চলছিল বাহনটি; ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক বেপরোয়াভাবে তাদের পিষে দেয়। এর ফলে ঘটনাস্থলেই এক আরোহীর অকালমৃত্যু ঘটে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অপর আরোহীও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পুনরায় আমাদের নজরে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং শৃঙ্খলাহীন চলাচল দিন দিন কতটা ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে ঘটে যাওয়া এসব রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাকে আর কেবল মানুষের আকস্মিক অসাবধানতা বা নিয়তির লিখন বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; বরং এটি আমাদের বর্তমান সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা ও নজরদারির চরম অভাবকেই দিনশেষে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। মহাসড়কে ছোট ও বড় যানবাহনের একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খল সহাবস্থান, ট্রাফিক আইনের শিথিল প্রয়োগ এবং পরিবহন চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অনৈতিক প্রবণতা প্রতিনিয়ত নির্দোষ ও নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। সচরাচর কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর চালক পালিয়ে যাওয়া, যানবাহন জব্দ করা কিংবা ঐতিহ্যবাহী থোক মামলা ও তদন্ত কমিটি গঠনের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়; কিন্তু প্রকৃত অর্থে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দীর্ঘমেয়াদী বা কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার চরম ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।
একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অবিলম্বে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের ২৪ ঘণ্টার কার্যকর নজরদারি বৃদ্ধি করা, অপেশাদার চালকদের লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং সড়ক নিরাপত্তা আইন কঠোর হস্তে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা স্থাপন এবং চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। তা না হলে দেশের মহাসড়কগুলো এভাবে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হতে থাকবে এবং দেশের অসংখ্য সম্ভাবনাময় ও কর্মক্ষম জীবন অকালে ঝরে পড়বে, যা কোনো সচেতন ও সভ্য সমাজের জন্য কখনোই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।