Daily Janabhasha ১৬ জুন ২০২৬ ০৩:৪৮ পি.এম
ফিফা উন্মাদনায় ছাদে ছাদে বিদেশি পতাকা
মোহাম্মদ সাকিফ:
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় উড়তে দেখা যায় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি কিংবা অন্যান্য দেশের পতাকা। তবে বিদেশি পতাকা উত্তোলন নিয়ে বাংলাদেশের আইন কী বলছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনা।
ফিফা বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসর সামনে এলেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় সমর্থকদের উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, মাঠ কিংবা সড়কের পাশে উড়তে দেখা যায় বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—বিদেশি পতাকা উত্তোলনে কোনো আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে কি না এবং থাকলে তা কতটা মানা হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলার প্রতি সমর্থন জানাতে বিদেশি দেশের পতাকা প্রদর্শন আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে অন্য কোনো দেশের পতাকা উত্তোলন করা হলে বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখতে হবে। দুটি পতাকা থাকলে বাংলাদেশের পতাকা ডান পাশে থাকবে। একাধিক দেশের পতাকা থাকলে বাংলাদেশের পতাকাকে কেন্দ্রস্থলে বা বিশেষ মর্যাদার স্থানে রাখতে হবে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের পতাকার ওপরে অন্য কোনো পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সেগুলো আলাদা খুঁটিতে এবং প্রায় সমান আকারের হতে হবে।
তবে বাস্তবে দেখা যায়, বিশ্বকাপ মৌসুমে অনেক স্থানে বিদেশি পতাকা জাতীয় পতাকার চেয়ে বড় আকারে টাঙানো হয় বা একই খুঁটিতে একাধিক পতাকা ব্যবহার করা হয়, যা প্রচলিত বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, খেলার প্রতি আবেগ প্রকাশের অধিকার সবার থাকলেও জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
ফুটবল উন্মাদনা যেন জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।